আনন্দবাজারের দাদাগিরি মার্কা প্রতিবেদন বন্ধ হোক! বাংলাদেশের প্রতি ভারতের দাদাগিরি স্বভাব বদলাতেই হবে
এম. মাহফুজুর রহমানঃ
কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের কথা বলছি। সেখানে বলা হয়েছে:
“ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রশ্নে সর্বতোভাবে নির্ভরশীল ঢাকা। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তব সচেতন ভাবে ভারতকে দেখুক এবং নিজের দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে চাঙ্গা করতে অবিলম্বে নয়াদিল্লির সঙ্গে কথোপকথন শুরু করুক।”
প্রতিবেদনটিতে তথাকথিত বিশ্লেষকদের বরাতে আরও বলা হয়: “মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, শ্রীলঙ্কাও এই ধরনের সঙ্কটে পড়েছিল এবং দিল্লির পাশে থাকা তখন কলম্বোর জন্য অত্যবশ্যক ছিল। ভারতই সর্বাগ্রে এবং একমাত্র দেশ হিসেবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল শ্রীলঙ্কার দিকে। ভারতের প্রতি ‘লক্ষ্যহীন ক্রোধ’ এবং ‘অন্যায় বিরোধিতা’ করে গেলে তা ভারত-বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ সম্পর্ককেই দুর্বল করবে।”
এসব প্রতিবেদন পুরোটাই মনগড়া। মূল ব্যাপার হলো তারা সবসময় স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে প্রতিপালন করে বাংলাদেশ থেকে অন্যায্যভাবে একতরফাভাবে ফায়দা তুলে নিয়েছে। হাসিনা না থাকায় যে সেটা আর সম্ভব নয় তা বুঝে গেছে ভারত।
“ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রশ্নে সর্বতোভাবে নির্ভরশীল ঢাকা”- প্রতিবেদনের এই কথাটি মোটেই যৌক্তিক নয়। ঢাকা কোনোভাবেই সর্বতোভাবে দিল্লী তথা ভারতের প্রতি নির্ভরশীল নয়। তার প্রমাণ কোলকাতাসহ পুরো ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনুপস্থিতিতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধ্বস নেমে আসা।
বাংলাদেশ যেমন প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে ব্যবসা খাতসহ নানা ভাবে যুক্ত; ভারতও তেমনি বাংলাদেশের ওপর বহু ব্যাপারে গুরুতরভাবে নির্ভরশীল।
“নিজের দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে চাঙ্গা করতে অবিলম্বে নয়াদিল্লির সঙ্গে কথোপকথন শুরু করুক”- এই উক্তির বিপরীতে বলতে চাই:
ভারতেরই বরং উচিৎ কিভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পারিক সম্পর্ক উন্নয়ন করা যায় তা নিয়ে সঠিকভাবে ভাবা। ভারতের উচিত বাংলাদেশকে প্রতিবেশি হিসেবে শ্রদ্ধা করা। সব পাওনার ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে দিতে হবে। বাংলাদেশের সরকারগুলোর কোনো চেয়ারকে ভালো না বেসে; ভারতকে বাংলাদেশের জনগণকে ভালোবাসতে হবে। সরকারকে ভালো না বেসে বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই কেবল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি নতুন ইতিবাচক মাত্রায় নিয়ে আসা সম্ভব। দু:খজনক হলেও সত্য আজ পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ বিবেচনা মন দেয়নি।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কতটা মধুর বা তিক্ত হবে তা নির্ভর করবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বাংলাদেশের প্রতি আচরণের নিরীখে। সেজন্য ভারতের উচিত বাংলাদেশসহ প্রতিবেশি সব রাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্যতার ভিত্তিতে-সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা। নাহলে প্রতিবেশি কোনো রাষ্ট্রের কাছে ভারত ভালো আচরণ পাবে না। তার বড় প্রমাণ ইতোমধ্যে মালদ্বীপ দিয়েছে।
সুতরাং ভারতীয় সাংবাদিকদের/ বিশ্লেষকদের/বুদ্ধিজীবীদের অনুরোধ জানাচ্ছি আপনারা এসব মন্তব্য করে বাংলাদেশের সঙ্গে দিল্লীর সম্পর্ককে বিষিয়ে না তুলে বরং দিল্লীকে প্রতিবেশি বাংলাদেশসহ প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি সুন্দর/ন্যায্য/সুসমসম্পর্ক বজায় রাখতে পরামর্শ দিন। প্রতিবেশিরা আপনাদের নিয়ে কী ভাবে আপনারা বরং সে বিষয়ে গবেষণা করুন। তাহলে অনেক কিছুর উত্তর পাবেন। সুসম্পর্ক কিভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হয় সেবিষয়েও সম্যক ধারণা পাবেন।
প্রতিবেশিদের সঙ্গে দাদাগিরি করার পরিণাম সবসময়ই ভয়াবহ। যা ভারতের অখণ্ডতাসহ বিভিন্ন সম্পর্ক উন্নয়ন প্রশ্নে হুমকি স্বরূপ।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনটির শিরোনাম: বাংলাদেশ পরিস্থিতি আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ, বলছেন বিশেষজ্ঞেরা (https://www.anandabazar.com/world/diplomats-of-india-thinks-after-sheikh-hasinas-exit-bangladesh-is-turning-out-to-be-paradise-of-fundamentalist/cid/1543970#goog_rewarded)।

Comments
Post a Comment