গল্প: পৃথিবী ও প্রকৃতির কথপোকথন!

এম. মাহফুজুর রহমান:



পৃথিবী: শোনো প্রকৃতি ভাই; মানুষেরা আমার কী অবস্থা করে রেখেছে তাতো দেখতেই পাচ্ছো। তারা কার্বন নি:সরণ করছে, নানারকম ধোঁয়ার উদগীরণ করছে। এরকম নানা অপকর্ম করে চলছে তাদেরই সুখের জন্য। এসব করে আমাকে বিষিয়ে তুলছে তারা। আমি প্রাণে বাঁচতে চাই। তুমি কি আমার জন্য কিছু করতে পারো?

প্রকৃতি: মানুষেরা কি শুধু তোমাকেই ধ্বংস করছে? না। আমিও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। আমিও কি শান্তিতে দিনাপিতপাত করতে পারছি? তারা গাছ কাটছে। কিন্তু গাছ যে আবার লাগাতে হয় সেটা যেন মনেই থাকে না। পশুপাখির আস্তানা গুড়িয়ে দিচ্ছে জঙ্গল পরিস্কারের নামে। তাদেরই বসবাসের সুবিধার্থে। কোথায় যাবে আমার এই পশু-পাখি! এরকম আরো কত কি! বলতে পারো আমি কিভাবে বাঁচবো?

পৃথিবী: কি করা যায়? এভাবে চলতে থাকলেতো আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবো। শুধু মানুষ বেঁচে থাকবে? তা হবে না। কিছু একটা করা দরকার।

প্রকৃতি: ঠিক বলেছো ভাই। এসো আমরা মিলিত হই। আমাদের মিলিত শক্তিই কেবল পারে মানুষের কবল থেকে আমাদের মুক্ত করতে। আমাদের ওপর মানুষের বিজয়গাঁথা আর সইতে পারছি না। অসহ্য!

পৃথিবী: শোনো, চলো; মানুষের বিরুদ্ধে তোমার-আমার শক্তি ও অন্যান্য উপাদানগুলোকে খেপিয়ে তুলি। আকাশ-বাতাস, মাটি, পানি, পশু-পাখি, মানুষ ছাড়া অন্যান্য জীব-জন্তু, অর্থাৎ জল-স্থল-শূন্যে-মহাশূন্যে যা কিছু আছে তাই নিয়ে মানুষের ওপর ঝাপিয়ে পড়তে হবে। আমরা অতীতে তীব্র বন্যা, সাইক্লোন, ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বুশফায়ার, ভূ-কম্পন কিংবা বিভিন্ন রোগের মহামারি দিয়ে মানুষ নিধন করিনি? করেছিতো!

প্রকৃতি: তুমিতো বেশ সুন্দর করে কথা বলো! তোমার ওই সুচিন্তিত পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ। তবে আমরা একেকটি উপাদান ব্যবহার করে একেকবার মানুষকে শিক্ষা দিতে পারি। যদি তাতেও না হয় তাহলে একাধিক শক্তি একইসঙ্গে ব্যবহার করবো। তাতেও না হলে আমাদের সম্মিলিত ‘সামরিক’ শক্তি দিয়েই মানুষ ধ্বংসে ঝাপিয়ে পড়বো। তাহলেতো ঘাঁয়েল করতে পারবো নাকি! চিন্তা করো না। মানুষকে অসহায় করে তোলা কোনো ব্যাপারই না।

ধরো, একবার মাটির সাহায্যে আমরা ভূমিকম্পন সৃষ্টি করবো। পানির সাহায্য নিয়ে প্লাবিত করবো মনুষ্য বসবাসের অঞ্চলসমূহ। অন্যদিকে দাবানল ছড়িয়ে পুড়িয়ে দেব ওদের জনপদ। মানুষতো আজ পোকা-মাকড়, ইঁদুর-বাঁদর, সাপ-ব্যাঙসহ মোটামুটি সব ধরনের কীট-পতঙ্গই ভক্ষণ করে। কী খায় না ওরা! ওদের কাছেতো কোনো বাঁছ-বিচার নেই। ধরো ক্ষুদ্র কীট-পতঙ্গের বিষ কিংবা কোনো একটি ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেব। যেন ওরা কষ্ট সইতে না পেরে ধীরে ধীরে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

পৃথিবী: তোমার প্রতিশোধের স্পৃহা দেখে আমি মুগ্ধ! সত্যিই উজ্জীবিত। চলো নেমে পড়ি মানব জাতি নিধনে। অবশ্য ইতোমধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে তাদের মধ্যে আমরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি। ব্যাপক হারে মারা পড়ছে ওরা। দরকার হলে অন্য কোনোভাবে আবার আক্রমণ হবে এই চিরশত্রুদের বিরুদ্ধে। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ চলমান থাকবে। হয় মানুষ শিক্ষা নেবে যে পৃথিবী-প্রকৃতির ওপর তাদের কোনো অন্যায্য খবরদারি- আধিপত্য চলবে না। আমাদের সঙ্গে তারা সহাবস্থান করবে। নয়তো ধ্বংস হবে।

প্রকৃতি: তথাস্ত। আমাদের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে।


এম. মাহফুজুর রহমান একজন লেখক ও মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট। ই-মেইল: mahfuzjnu21@yahoo.com.

Comments

Post a Comment