দ্রব্যমূল্যের ‘কুত্তা’ থামাতে না পারলে কোনো সংস্কার কাজে আসবে না

সংস্কার পরে। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া থামান আগে। দ্রব্যমূল্যের ‘কুত্তা’ থামাতে না পারলে কোনো কিছু কাজে আসবে না। মানুষ আগে খেয়ে বাঁচুক। তারপর সংস্কার। মানুষকে আগে শান্তি দেন। পরে ঠান্ডা মাথায় সংস্কার করুন। কিভাবে দ্রব্যমূল্যের অনমনীয় কুত্তা থামাবেন সেটা পাবালিক জানে না। কিন্তু এই কুত্তা থামাতে হবে।





মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠের পর্যায়ে নিয়ে যাবেন না। যারা অতি দ্রুত দেশে নির্বাচন চায়; তারা কেউই জনমানুষের ভালো চায় না।

সুতরাং আগে নির্বাচন/সংস্কারের চিন্তা নয়। মানুষের শান্তিকে প্রাধান্য দিন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ‘অজুহাত’ মানুষ শুনতে চায় না আর। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ক্যাম্পে না রেখে; রাস্তায় নামিয়ে দিন।

বলা হচ্ছে- “সরকার এখন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে”। আদতে তা মোটেই মনে হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যাপারটি যতটা না জটিল তার চেয়েও বেশি রাজনৈতিক। বাজারের সংকট অনেক গভীর এবং ছোটখাটোভাবে গৃহীত কোনো উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদে কোনো লাভ হবে না।

শুধু কাগজে কলমে টাস্ক ফোর্স, ভোক্তা অধিদপ্তরের নামমাত্র আর লোক দেখানো-মিডিয়া দেখানো অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কোনো ভালো ফল আসবে না। বাস্তবিক অর্থে এতে দ্রব্য মূল্যের কোনো দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং দিন দিন তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে।

অন্তবর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করতে নানামহল যেহেতু তৎপর রয়েছে। তাদের সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মানুষের জীবনকে শান্ত রাখতে হবে। মানুষের জীবনকে আশান্ত রেখে আমরা কোন শান্তি আনতে চাই? জনজীবনকে অশান্ত রাখলে কোনো কাজই সফল হবে না।

দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে হবে। বাজারে অসাধু ফরিয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গহণ করতে হবে। অন্তবর্তী সরকারও যদি এসব কাজ না করতে পারে তাহলে কোন সরকার এটা করতে পারবে? মানুষ প্রত্যাশা করছে, ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারই এটা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে। কিন্তু সেটা কবে? প্রশ্ন হচ্ছে বাজার কি আসলে সরকারের দখলে আছে? কোনোকালে কোনো সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিলো? কোনো সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণে সদিচ্ছা ছিলো কি? এসব প্রশ্নের উত্তর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ‘না’। এটাই জাতি হিসেবে আমাদের দুর্ভাগ্য!

কৃত্রিম সংকট তৈরির অসাধু চক্র থামাতে হবে শক্ত হাতে। বাজারে নামে-বেনামে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থার বাস্তবিক কার্যক্রম বৃদ্ধি জোরদার করতে হবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরাসরি সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এসব এখন সময়ের দাবি।

দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিদ্রুত, অতি শক্ত হাতে দমন প্রক্রিয়া, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।

Comments